এক্সপ্রেস জীবননগর : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নে জৈব সার কান্ডে ৫ বিএনপি নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন ও সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক চিঠিতে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার হওয়া নেতারা হলেন বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাশার, সহ-সভাপতি খাদেমুল খোকন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল কাশেম, বাঁকা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রাজা মালিথা।
জানা গেছে, প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামুল্যে বিতরণের জন্য জৈব সার বিএনপির কতিপয় নেতা বরাদ্দ পাওয়ার আগেই কো¤পানীর সাথে যোগাযোগ করে ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই সার সরিয়ে নেয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা সার আটক করে। এরপর মিছিলের বহর নিয়ে রাতে পাওয়ার ট্রিলার ভর্ভি জৈব সার জীবননগর থানায় জমা দেয়। ইউনিয়ন পরিষদের টিন সেডে রাখা উপজেলার উথলী গ্রাম থেকে তৈরী এগ্রো ডায়মন্ড কো¤পানীর সুরক্ষা নামের সার বস্তার মধ্যে থেকে বের করে দেখা যায় এটার মধ্যে জৈব সারের চেয়ে মাটির ভাগ বেশী।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা অভিযোগ করেন, প্রতি বছর এডিপির উন্নয়ন তহবিল থেকে পিআইসির মাধ্যমে সরকার ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামুল্যে জৈব সার বিতরণ করে আসছে। এ বছর যে জৈব সার আনা হয়েছে এতে বেশীর ভাগ মাটি, তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে কে এনেছে সেটাও তাদের জানা নেই। তবে এ বছর ইউনিয়ন উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটির আলোচনা সভায় জৈব সারের পিআইসি করা হয়েছিল সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য মর্জিনা বেগমকে। তিনি অথবা পরিষদের সচিব এ বিষয়টি জানতে পারেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, জৈব সারের জন্য চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মর্জিনা বেগমকে পিআইসি করে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ নেন। কিন্তু চেয়ারম্যান বহিস্কার হওয়ার পর বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে মর্জিনা বেগমকে কিছু না বলেই দুটি পিআইসি করে এগ্রো ডায়মন্ড কো¤পানীর নিকট থেকে ৪০০ টাকা বস্তা হিসেবে ৬৫২ বস্তা জৈব সার কেনেন। এগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে ৬১২ বস্তা এবং বাকী ৪০ বস্তা সার কোথায় আছে তা কেউ জানে না।
বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আসাদুর রহমান বলেন, বাঁকা ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে কি পরিমাণ সার এ বছর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। আর এটা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জানারও কথা নয়।
জীবননগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক জুয়েল শেখ বলেন, জৈব সার ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে, এটা আমি শুনেছি। তবে কে রেখেছে কীভাবে রেখেছে তা আমি জানি না।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-আমীন বলেন, জৈব সারের বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি ওই ইউনিয়নে দায়িত্বরত প্রশাসককে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি।
এদিকে জৈব সার কান্ডে জড়িত ৫ বিএনপি নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। বহিষ্কার পত্রে বলা হয়, ‘গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদে জৈব সার বিতরণ ও সার সরবরাহের ব্যাপারে অনধিকার প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় দলের ভাবমূতি নষ্ট করেছেন। বিধায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।’
বহিষ্কার হওয়া নেতারা হলেন বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাশার, সহ-সভাপতি খাদেমুল খোকন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল কাশেম, বাঁকা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রাজা মালিথা।
আপনার মতামত লিখুন :